মালয়েশিয়ায় জনশক্তি রপ্তানি শুরু হচ্ছে | UNC
সন্ধ্যা ৭:৩৭ বৃহস্পতিবার ২৩শে মে, ২০১৩ ইং ৯ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪২০ বঙ্গাব্দ জ্যৈষ্ঠ ১৩ই রজব, ১৪৩৪ হিজরী
 

মালয়েশিয়ায় জনশক্তি রপ্তানি শুরু হচ্ছে

|

ডেস্ক রিপোর্ট (উখিয়ানিউজ ডটকম)দুই বছরেরও বেশি সময় প্রাতিষ্ঠানিকভাবে বন্ধ থাকার পর সরকারিভাবে চালু হতে যাচ্ছে মালয়েশিয়ায় জনশক্তি রপ্তানি। আগামীকাল সোমবার এ বিষয়ে দুই দেশের মধ্যে সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) সই হবে। এ জন্য প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানমন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার খন্দকার মোশাররফ হোসেনের নেতৃত্বে প্রতিনিধিদল গত শুক্রবার কুয়ালালামপুর পৌঁছান।
মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ কর্মকর্তা শহিদুল আলম জানান, ২৬ নভেম্বর (সোমবার) সমঝোতা স্মারকে (এমওইউ) সই করবেন মন্ত্রী খন্দকার মোশাররফ হোসেন। মালয়েশিয়ার সরকারের পক্ষে সই করবেন দেশটির মানবসম্পদ বিষয়ক মন্ত্রী এম সুব্রামানিয়াম। সরকারি পর্যায়ে (জিটুজি পদ্ধতি) বাংলাদেশি কর্মী পাঠানো ছাড়াও এ সময় মন্ত্রী দুই দেশের মধ্যে মানবপাচার প্রতিরোধ এবং আন্তরাষ্ট্রীয় অপরাধ দমন সংক্রান্ত আরো দুটি সমঝোতা স্মারকে সই করবেন। মন্ত্রী ছাড়াও প্রতিনিধিদলে আছেন মন্ত্রণালয়ের সচিব জাফর আহমেদ খান, জনশক্তি কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরোর (বিএমইটি) মহাপরিচালক শামছুন নাহার এবং পরিচালক নুরুল ইসলামসহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।
বিএমইটি সূত্র জানায়, প্রাথমিক সিদ্ধান্ত অনুযায়ী আগামী পাঁচ বছরে বাংলাদেশ থেকে পাঁচ লাখ শ্রমিক নিতে আগ্রহী মালয়েশিয়া। বাংলাদেশ থেকে প্লান্টেশন, এগ্রিকালচার, ইলেকট্রিশিয়ান, কম্পিউটার ইঞ্জিনিয়ার, প্লাম্বার, ওয়েল্ডার, ফিটারসহ বিভিন্ন খাতে এসব শ্রমিক নেওয়া হবে। প্রথম পর্যায়ে প্লান্টেশন খাতে ৫০ হাজার শ্রমিক নেবে দেশটি। এ কারণে মালয়েশিয়ার সঙ্গে সরকারি পর্যায়ে শ্রমিক পাঠানোর চুক্তি সই করার পরই সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় থেকে মালয়েশিয়ায় কর্মী নিয়োগের জন্য নিবন্ধন করতে বিজ্ঞাপন দেওয়া হবে। পরে পর্যায়ক্রমে বাকি শ্রমিক পাঠানো হবে। সরকারিভাবে মালয়েশিয়া যেতে একজন শ্রমিকের সর্বোচ্চ ৪০-৫০ হাজার টাকা ব্যয় হবে।
মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, আট বছরের ভিসা চুক্তিতে মাসিক ২৫-৩০ হাজার টাকা বেতনে বাংলাদেশি শ্রমিকদের মালয়েশিয়া পাঠানো হবে। বার্ষিক চুক্তি শেষ হওয়ার তিন মাস আগে চুক্তি নবায়নের সুযোগ শ্রমিকদের দেওয়া হবে। মালয়েশিয়া যাওয়ার উড়োজাহাজ ভাড়া বহন করবে নিয়োগকারী কম্পানি। শ্রমিক পাঠানোর ক্ষেত্রে জেলাভিত্তিক কোটা অনুসরণ করা হবে, যাতে আলাদাভাবে নারী ও পুরুষ কোটা থাকবে। সরকারি বিজ্ঞাপনের সময় অনুযায়ী নিবন্ধিত আগ্রহীদের বাছাই করে প্রশিক্ষণের ভিত্তিতে মালয়েশিয়ায় পাঠানো হবে। বিএমইটিতে অনলাইনে বিনা খরচে নিবন্ধনের সুযোগ পাবেন শ্রমিকরা। এ জন্য মালয়েশিয়া যেতে ইচ্ছুক শ্রমিকদের জন্য বিএমইটিতে আলাদা ডেটাবেজ থাকবে। তবে নিবন্ধনের জন্য আগ্রহীদের অবশ্যই যন্ত্রে পাঠযোগ্য পাসপোর্ট (এমআরপি) থাকতে হবে।
এ প্রসঙ্গে প্রবাসীকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সচিব ড. জাফর আহমেদ খান জানান, জিটুজি পদ্ধতিতে শ্রমিক গেলে এতে অভিবাসন খরচ কমার পাশাপাশি শ্রমিকদের স্বার্থ ও নিরাপত্তা সুরক্ষিত হবে। আগ্রহী শ্রমিকদের সব তথ্য নির্দিষ্ট ডেটাবেজে সংরক্ষিত থাকায় তাদের পর্যায়ক্রমে পাঠাতে সুবিধা হবে। প্রাথমিকভাবে প্লান্টেশন, নির্মাণ ও কৃষিকাজসহ পাঁচ ধরনের কাজের জন্য শ্রমিক নেবে মালয়েশিয়া।
উল্লেখ্য, মালয়েশিয়া ২০০৯ সালের শুরুতে বাংলাদেশ থেকে জনশক্তি আমদানি বন্ধ করে দেয়। বাংলাদেশের বেশকিছু রিক্রুটিং এজেন্সি মালয়েশীয় চাকরিদাতাদের চাহিদাপত্র নকল করে চাহিদার চেয়ে বেশি কর্মী পাঠায়। ফলে অনেক বাংলাদেশি শ্রমিক দেশটিতে অবৈধ হয়ে যায়, এর পরিপ্রেক্ষিতে বাংলাদেশ থেকে শ্রমিক নেওয়া বন্ধ করে দেয় দেশটি।

লেখাটি পড়া হয়েছে 4 বার