
কক্সবাজার সদরের বাংলাবাজার কেন্দ্রীয় জামে মসজিদের অজুখানা দখল-বেদখলকে কেন্দ্র করে দফায় দফায় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে এক মুসল্লির মৃত্যু ও নারীসহ ৫ জন আহত হয়েছে।
বুধবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) মাগরিবের নামাজের পর থেকে কয়েক দফায় এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন পিএমখালী ইউনিয়নের ৫ নং ওয়ার্ডের সদস্য সাইফুল ইসলাম সোহাগ।
তিনি জানান, বাংলাবাজার কেন্দ্রীয় জামে মসজিদের অজুখানার জন্য আমাদের পূর্ব পুরুষরা ৮ শতক জমি রেজিস্ট্রি করে দান করেন। ওই জমিতে ওজুখার কাজও প্রায় শেষ হয়েছে। কিন্তু হঠাৎ করে দক্ষিণ নয়াপাড়া গ্রামের মৃত সুলাইমানের ছেলে সাহাব উদ্দিন (৬০), মুস্তাক আহমেদ (৪০), বাদশা মিয়া (৬৫), রাজামিয়া (৫২), তার ছেলে তানভীর (২৫) ও দরগাহ মাজার এলাকার শহর আলীসহ একটি ভূমিদস্যু চক্র জমিটি তাদের বলে দাবি করে বসে নানা ধরনের হুমকি ধামকি দিতে থাকেন। এই ঝামেলা থেকে পরিত্রাণ পেতে মসজিদ কমিটিসহ মুসল্লিরা ধর্ম উপদেষ্টা বরাবর লিখিত আবেদন করেন। বিষয়টি সমাধান করে দিতে মন্ত্রণালয় জেলা প্রশাসককে নির্দেশ দেন।
এমতাস্থায় বুধবার বিকেলে সদর উপজেলার সহকারী কমিশনার ভূমি (এসিল্যান্ড) শারমিন সুলতানা উপস্থিত হয়ে চক্রটিকে যাবতীয় কাগজপত্র নিয়ে আগামিকাল তার অফিসে যেতে নির্দেশা দেন। ভূমিদস্যু চক্রটি তা মেনে মাগরিবের নামাজের পর বিভিন্ন জায়গা থেকে অস্ত্রধারীদের সংঘবদ্ধ করে এলোপাতাড়ি দফায় দফায় হামলা চালিয়ে মসজিদের অজুখানাটি দখলে নেন। এসময় মসজিদের সাথে লাগোয়া ব্যবসায়ী নাছির উদ্দিনের স্ত্রীসহ অন্তত পাঁচজন মুসল্লি গুরুতর আহত হয়।
খবর পেয়ে মসজিদ কমিটির লোকজনসহ মুসল্লিরা এগিয়ে এলে সন্ত্রাসীরা এলোপাতাড়ি হামলা চালাতে থাকেন। এসময় উচ্চ বাক্য করে সংঘর্ষ থামাতে গিয়ে মুসল্লি ও সমাজকর্মী নুরুল আমিন প্রকাশ কালা বদা (৬০) মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। তাকে উদ্ধার করে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
তিনি বাংলাবাজার পশ্চিম মুক্তারকুলের বাসিন্দা মৃত আছিউর রহমানের ছেলে। আহতদের উদ্ধার করে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে নিলে অবস্থার অবনতি হওয়ায় প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে দুজনকে রেফার করেন চিকিৎসক। পরে বাকী আহতদের চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে সদর হাসপাতালে।
কায়সার, রাজু, রিদুয়ান, কামরুলসহ একাধিক মুসল্লি জানান, সরকার পরিবর্তনের সুযোগকে কাজে লাগিয়ে ওই এলাকায় চিহ্নিত একটি ভূমিদস্যু চক্র বেপরোয়া হয়ে উঠেছে। দীর্ঘদিন ধরে চক্রটি ওই স্থানে সরকারি জমি, মসজিদ, পাহাড়, চলাচলের রাস্তা; নালা দখল করে বহুতল ভবন ও টিনশেড দোকান তৈরি করে দখল অব্যাহত রেখেছে। সম্প্রতি চক্রটি আরও বেপরোয়া হয়ে মসজিদের অজুখানা দখল করে স্থাপনা নির্মাণের পাঁয়তারা চালাচ্ছে।
তাদের অভিযোগ, ভূমিদস্যু চক্রটির তৎপরতা থামাতে ব্যক্তি মালিকানাধীন জমি মালিকরা ১৪৪ ধারা জারি করেও থামাতে পারছেনা তাদের। এই চক্রের মূলোৎপাটন করতে আদালত, থানা পুলিশ কিংবা প্রশাসনের বিভিন্ন বাহিনীর দ্বারস্থ হয়েও তেমন কোন পরিবর্তন আনতে পারছে না।
পাঠকের মতামত