অপহরণ করে মুক্তিপণ আদায়, মাদক ও অস্ত্র বেচাকেনা, মানব পাচার, চাঁদাবাজি, অপহরণ বাণিজ্য এবং দোকান দখল থেকে শুরু করে অপরাধ কার্যক্রম কোনোমতেই কমছে না রোহিঙ্গা ক্যাম্পে। এসব অপকর্মের জন্য কক্সবাজারের উখিয়া টেকনাফ রোহিঙ্গা ক্যাম্পকেন্দ্রিক অপরাধযজ্ঞ স্বাভাবিক বিষয়ে পরিণত হয়েছে। এ ছাড়া রোহিঙ্গা সশস্ত্র গোষ্ঠীর অপতৎপরতা তো আছেই। চেকপোস্ট থাকলেও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী নিয়ন্ত্রণে থাকেনা। গত এক বছরে ক্যাম্পে খুন হয়েছেন ৫১ জন রোহিঙ্গা। আর ৩০৭টি মামলায় গ্রেপ্তার করা হয়েছে ৭২৫ জনকে।
সূত্রমতে, উখিয়ার ৩৫টি আশ্রয়শিবিরে রোহিঙ্গার সংখ্যা ৮ লাখ ৬০ হাজার ১৭৫ জন। রোহিঙ্গা নেতারা বলছেন, নিরাপত্তার স্বার্থে ক্যাম্পের চারদিকে কাঁটাতারের বেড়া দিয়ে ঘিরে রাখা হলেও বর্তমানে শতাধিক স্থানে তা কেটে ফেলা হয়েছে।
স্থানীয়রা বলছেন, খুনের ঘটনা বেড়ে যাওয়ায় সাধারণ রোহিঙ্গার পাশাপাশি শরণার্থী সেবা কার্যক্রমের সঙ্গে যুক্ত অর্ধশতাধিক এনজিও ও আইএনজিওর কর্মকর্তা-কর্মচারীরা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। তারা বিকাল ৪টার আগেই ক্যাম্প ত্যাগ করতে বাধ্য হচ্ছেন।
সর্বশেষ গত ১৫ ফেব্রুয়ারি টেকনাফ শালবন পাহাড় থেকে শফি বাহিনীর সেকেন্ড কমান্ডার মো. নুরের (২৫) গুলিবিদ্ধ লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। আগের দিন ১৪ ফেব্রুয়ারি উখিয়া ক্যাম্পে মোহাম্মদ আলী (৪০) নামে এক রোহিঙ্গাকে ছুরিকাঘাতে হত্যা করা হয়।
[caption id="attachment_77060" align="aligncenter" width="742"] রোহিঙ্গা বাজারে স্বর্ণের দোকান[/caption]
বিগত এক বছরে আশ্রয়শিবিরে মাদক চোরাচালান বেড়েছে অনেক। বেকার রোহিঙ্গারা মাদক চোরাচালানসহ সন্ত্রাসে জড়িয়ে পড়ছেন। এপিবিএন গত এক বছরে বিপুল পরিমাণ ইয়াবা, ক্রিস্টাল মেথ (আইস), বিয়ার, গাঁজা ও চোলাই মদ উদ্ধার করেছে। এ সময় মাদক বিক্রির অর্থ ও মিয়ানমারের মুদ্রাও উদ্ধার করা হয়েছে। এ ছাড়া গত এক বছরে মাদকের ১৩০টি মামলায় ১৫৮ জন রোহিঙ্গাকে গ্রেপ্তার করার কথা জানিয়েছে এপিবিএন।
সূত্রমতে, অবৈধ অস্ত্রের ব্যবহারও বাড়ছে ক্যাম্পে। রোহিঙ্গা শিবির থেকে গত বছর শুটারগান, বিদেশি পিস্তল ও বিভিন্ন বিস্ফোরক উদ্ধার করা হয়েছে। গত এক বছরে অস্ত্রের ১০২টি মামলায় ১৩০ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়। সন্ত্রাসীদের ধরতে গিয়ে পুলিশের ওপর হামলার ঘটনাও ঘটেছে।
অধিকার বাস্তবায়ন কমিটি পালংখালীর সভাপতি ইঞ্জিনিয়ার রবিউল হোসাইন বলেন, ক্যাম্পের বাইরে রোহিঙ্গাদের অবাধ চলাচল বন্ধ করা না গেলে গুম-অপহরণ কোনোভাবেই রোধ করা সম্ভব নয়। উখিয়া থানায় অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আরিফ হোসাইন বলেন, রোহিঙ্গা ক্যাম্পে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি রক্ষা করতে এপিবিএনের পাশাপাশি থানা পুলিশও কাজ করে যাচ্ছে। বলা যায় অতীতের তুলনায় অপরাধ কিছুটা নিয়ন্ত্রণে।
১৪ আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নের (এপিবিএন) অধিনায়ক (অতিরিক্ত ডিআইজি) মোহাম্মদ সিরাজ আমিন জানান, রোহিঙ্গা ক্যাম্পে দুষ্কৃতকারীদের নিয়ন্ত্রণে সর্বদা সতর্ক অবস্থানে থেকে কাজ করা হচ্ছে। বেশির ভাগ আসামি ক্যাম্পের বাইরে গহিন পাহাড়ের আস্তানায় অবস্থান করায় তাদের গ্রেপ্তার করতে বেগ পেতে হয়।